স্কুল থেকে ফিরে একটা কাজে একবার সন্ধ্যের সময় আমতায় যেতে হয়েছিল । তো কাজ মিটতে মিটতে বৃষ্টি নামল । ফলে বসে বসে গল্প , সঙ্গে পিঁয়াজ , কাঁচালঙ্কা , ছোলা , শশা সহযোগে মুড়ি । ব্যাপারটা বেশ জমে উঠেছিল । আর বাইরের বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গল্পে ভূত ঢুকতে দেরি করেনি । আবার সেই ছোটবেলায় বাবার কাছে শোনা নানা ভূতের গল্পে জমে উঠছিল । কিন্তু বাধ সাধল বৃষ্টিটা হঠাৎই যেমন এসেছিল তেমন হঠাৎই থেমে গেল । আর আমাকেও অনেকটা রাস্তা ফিরতে হবে তাই উঠে পড়লাম ।
মাঘের শেষে শীত কমে এলেও বৃষ্টির পর রাতে একটু শীত শীত করছিল । তবে খারাপ লাগছিল না । চারিদিকের বৃষ্টির পরের জ্যোৎস্নার নিস্তব্ধ রূপ দেখতে দেখতে উৎফুল্ল মনে আসছিলাম । কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে বাইকটার কি হয়েছে জানি না , মাঝ রাস্তাতেই বন্ধ হয়ে গেল । এখনও অনেকটা রাস্তা যেতে হবে । ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে রাস্তা । কোনো দোকানপাটও নেই । কি আর করি ! কয়েকবার স্টার্ট দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করলাম । অগত্যা , মাথা থেকে হেলমেটটি খুলে বাইকটি টেনে নিয়ে চললাম ।
একটু একটু করে এগোই , আর বিশ্রাম নেওয়ার নামে একটা করে সিগারেট ধরাই । এইভাবে এগোতে এগোতে দেখতে পাচ্ছি ঐ যে দূরে আমাদেরই গ্রামের শ্মশানের পাশ দিয়ে রাস্তা গিয়ে গ্রামে ঢুকেছে । আর তো একটুখানি । তারপরই বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে পারবো ।
এই বিশ্রামের কথা ভাবতে ভাবতেই শ্মশানের পাশে এসে পড়লাম । আঃ ! এ কি দেখছি । চারিদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুধুই ঝিঁঝিঁর ডাক । শ্মশানের পাশের পুকুরের জলে শত শত চাঁদ । অপূর্ব শোভা দেখতে দেখতে চমকে উঠলাম । রাস্তার উপর দিয়ে একটা মাটির কলসী এগিয়ে আসছে । একটু এগোয় , তারপরই থেমে যায় । আবার একটু এগিয়ে আসে । হাতের কাছে কোনো আলোও নেই । জ্যোৎস্না আছে , কিন্তু রাস্তার পাশের বড় বড় গাছ ভেদ করে রাস্তায় আলো খুবই কম ।
তো আমার মন আবারও উৎফুল্ল হয়ে উঠল । যাই হোক , এতদিন পর একটা ভূতের দেখা পেলাম । আমার জীবন আজ স্বার্থক । একথা তাহলে সত্যি । এতদিন না মানলেও আজ নিজের চোখে দেখে অবিশ্বাস করি কিভাবে ? মাটির কলসী শ্মশানে থাকবে , এতে আমি কিছু অস্বাভাবিক না দেখলেও মাটির কলসী নিজের থেকে এগিয়ে আসে , এটা আগে কখনও কারোর কাছে শুনিনি ।
কিছুতেই মন মানতে চাইছিল না । যা দেখছি , তা কি ঠিক নয় ? কিন্তু চোখের সামনে এখনও দেখতে পাচ্ছি । আমার কেমন যেন বোধ শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে । কোনটা ঠিক ? মন না চোখ !
যাই হোক , অহেতুক আর সময় নষ্ট করা যায় না । বাইকটা দাঁড় করিয়ে কলসীর দিকে এগিয়ে গেলাম । ততক্ষণে কলসীটিও রাস্তা থেকে মাঠের দিকে নেমেছে । ঐখানটায় অন্ধকার একটু বেশি । আবারও চমক লাগার পালা ।
চমকে উঠলাম একটা শিয়ালের ডাকে । আর দেখলাম , রাস্তা থেকে কলসীটি নামার সময় একটা ইটের টুকরোয় ধাক্কা লেগে ভেঙে যাওয়ার ফলে মাথা থেকে কলসীমুক্ত হয়ে শিয়ালটি ডেকে উঠেছে । তারপর সেখান থেকে পালাতে সময় নেয়নি । আর মন না চোখ কোনটি ঠিক বুঝতে আমারও কোনো অসুবিধা হয় নি ।
মাঘের শেষে শীত কমে এলেও বৃষ্টির পর রাতে একটু শীত শীত করছিল । তবে খারাপ লাগছিল না । চারিদিকের বৃষ্টির পরের জ্যোৎস্নার নিস্তব্ধ রূপ দেখতে দেখতে উৎফুল্ল মনে আসছিলাম । কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে বাইকটার কি হয়েছে জানি না , মাঝ রাস্তাতেই বন্ধ হয়ে গেল । এখনও অনেকটা রাস্তা যেতে হবে । ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে রাস্তা । কোনো দোকানপাটও নেই । কি আর করি ! কয়েকবার স্টার্ট দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করলাম । অগত্যা , মাথা থেকে হেলমেটটি খুলে বাইকটি টেনে নিয়ে চললাম ।
একটু একটু করে এগোই , আর বিশ্রাম নেওয়ার নামে একটা করে সিগারেট ধরাই । এইভাবে এগোতে এগোতে দেখতে পাচ্ছি ঐ যে দূরে আমাদেরই গ্রামের শ্মশানের পাশ দিয়ে রাস্তা গিয়ে গ্রামে ঢুকেছে । আর তো একটুখানি । তারপরই বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে পারবো ।
এই বিশ্রামের কথা ভাবতে ভাবতেই শ্মশানের পাশে এসে পড়লাম । আঃ ! এ কি দেখছি । চারিদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুধুই ঝিঁঝিঁর ডাক । শ্মশানের পাশের পুকুরের জলে শত শত চাঁদ । অপূর্ব শোভা দেখতে দেখতে চমকে উঠলাম । রাস্তার উপর দিয়ে একটা মাটির কলসী এগিয়ে আসছে । একটু এগোয় , তারপরই থেমে যায় । আবার একটু এগিয়ে আসে । হাতের কাছে কোনো আলোও নেই । জ্যোৎস্না আছে , কিন্তু রাস্তার পাশের বড় বড় গাছ ভেদ করে রাস্তায় আলো খুবই কম ।
তো আমার মন আবারও উৎফুল্ল হয়ে উঠল । যাই হোক , এতদিন পর একটা ভূতের দেখা পেলাম । আমার জীবন আজ স্বার্থক । একথা তাহলে সত্যি । এতদিন না মানলেও আজ নিজের চোখে দেখে অবিশ্বাস করি কিভাবে ? মাটির কলসী শ্মশানে থাকবে , এতে আমি কিছু অস্বাভাবিক না দেখলেও মাটির কলসী নিজের থেকে এগিয়ে আসে , এটা আগে কখনও কারোর কাছে শুনিনি ।
কিছুতেই মন মানতে চাইছিল না । যা দেখছি , তা কি ঠিক নয় ? কিন্তু চোখের সামনে এখনও দেখতে পাচ্ছি । আমার কেমন যেন বোধ শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে । কোনটা ঠিক ? মন না চোখ !
যাই হোক , অহেতুক আর সময় নষ্ট করা যায় না । বাইকটা দাঁড় করিয়ে কলসীর দিকে এগিয়ে গেলাম । ততক্ষণে কলসীটিও রাস্তা থেকে মাঠের দিকে নেমেছে । ঐখানটায় অন্ধকার একটু বেশি । আবারও চমক লাগার পালা ।
চমকে উঠলাম একটা শিয়ালের ডাকে । আর দেখলাম , রাস্তা থেকে কলসীটি নামার সময় একটা ইটের টুকরোয় ধাক্কা লেগে ভেঙে যাওয়ার ফলে মাথা থেকে কলসীমুক্ত হয়ে শিয়ালটি ডেকে উঠেছে । তারপর সেখান থেকে পালাতে সময় নেয়নি । আর মন না চোখ কোনটি ঠিক বুঝতে আমারও কোনো অসুবিধা হয় নি ।
No comments:
Post a Comment